গর্ভধারণ থেকে সন্তানের জন্ম পর্যন্ত এবং পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য সঠিক পরিচর্যা, সঠিক পুষ্টি, মানসিক স্বস্তি এবং চিকিৎসা সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। নিচে ধাপে ধাপে মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও সুশৃঙ্খল পরিচর্যার নির্দেশনা দেওয়া হলো:
মাতৃত্বকালীন সুবিধা
১. গর্ভাবস্থার সময় যত্ন
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: প্রতি মাসে বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চেকআপ করানো।
- পুষ্টিকর খাবার: দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফল, ওজন অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহণ।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম: প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুম ও দুপুরে স্বল্প বিশ্রাম।
- পরিমিত ব্যায়াম: হালকা হাঁটা বা প্রেগন্যান্সি সেফ ব্যায়াম, যা শরীর ও মন সুস্থ রাখে।
- ক্ষতিকর অভ্যাস এড়ানো: ধূমপান, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে বিরত থাকা।
২. প্রসবকালীন সুবিধা
- প্রসব পরিকল্পনা: কোন হাসপাতালে বা ক্লিনিকে প্রসব হবে, তা আগে থেকেই ঠিক করা।
- প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রস্তুত: স্বাস্থ্য নথি, টেস্ট রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় টাকা সঙ্গে রাখা।
- চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা: প্রসবের পূর্বলক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া।
৩. প্রসব-পরবর্তী যত্ন (Postnatal Care)
- মায়ের যত্ন:
- পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ (দুধ, শাকসবজি, ডাল, প্রোটিন জাতীয় খাবার)।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি।
- ক্ষত সারাতে ও শক্তি ফিরিয়ে আনতে সঠিক পরিচর্যা।
- শিশুর যত্ন:
- বুকের দুধ খাওয়ানো (প্রথম ৬ মাস একমাত্র বুকের দুধ)।
- শিশুকে পরিষ্কার ও উষ্ণ রাখা।
৪. সরকারি ও বেসরকারি মাতৃত্বকালীন সুবিধা
- সরকারি হাসপাতাল/উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: বিনামূল্যে চেকআপ, ওষুধ ও প্রসব সেবা।
- মাতৃত্বকালীন ভাতা: দরিদ্র মা বা নিম্ন আয়ের মায়েদের জন্য সরকারি ভাতা সুবিধা।
- বেসরকারি সেবা: উন্নত চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, নিউট্রিশন গাইডলাইন এবং প্রসব-পরবর্তী সাপোর্ট।
৫. মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা
- গর্ভাবস্থায় ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে মানসিক অবসাদ (Postpartum Depression) এড়াতে পরিবারের সাপোর্ট প্রয়োজন।
- প্রিয় কাজ করা, সঙ্গীত শোনা, সঙ্গীর সাথে সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি আনে।
- মানসিক সমস্যা গুরুতর হলে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া জরুরি।
